পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney) কী?
কখনও কি এরকম কোন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, যেখানে নিজে উপস্থিত থেকে আপনার সম্পত্তি, ব্যবসা বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করতে পারেন নি তাই আপনার অবর্তমানে অন্য কাউকে দিয়ে সেই কাজ করাতে হয়েছে? আইনগতভাবে এই ক্ষমতা দেওয়ার লিখিত দলিলকেই মূলত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বলা হয়। এই বিষয়টি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ প্রণয়ন করে, যা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হলো এমন একটি আইনগত দলিল
যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি (পাওয়ারদাতা) অন্য একজনকে (পাওয়ারগ্রহীতা) তার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করেন। যেমন— জমি বিক্রি করা, ব্যাংক সংক্রান্ত কাজ করা, মামলা পরিচালনা করা বা কোনো চুক্তি সম্পাদন করা।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ধরন
আইন অনুযায়ী সাধারণত দুই ধরনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রয়েছে:
- সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: এটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য (যেমন: মামলা পরিচালনা) ব্যবহৃত হয়। পাওয়ারদাতা যেকোনো সময় নোটিশ
দিয়ে এটি বাতিল করতে পারেন। - অপ্রত্যাহারযোগ্য (Irrevocable) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: এটি জমি বা স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, ভূমি উন্নয়ন বা অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি একতরফা বাতিল করা যায় না।
রেজিস্ট্রেশন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আইন অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। দলিলে অবশ্যই পাওয়ারদাতা ও পাওয়ারগ্রহীতার ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি সংযুক্ত থাকতে হবে। এতে জালিয়াতির ঝুঁকি কমে। বিদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যদি পাওয়ারদাতা বিদেশে থাকেন, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলা দেশ মিশনে দলিলটি সম্পাদন করতে পারেন। বাংলাদেশে ব্যবহারের আগে সেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সত্যায়ন (Authentication) করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নথিভুক্ত করতে হয়।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নির অবসান বা বিলুপ্তি
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল হতে পারে: নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে বা নির্ধারিত সময় শেষ হলে। সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে, নোটিশের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রত্যাহার করলে। পাওয়ারদাতা বা পাওয়ারগ্রহীতার মৃত্যু হলে বা মানসিক ভারসাম্য হারালে। অপ্রত্যাহারযোগ্য দলিলের ক্ষেত্রে, উভয় পক্ষের সমঝোতা বা আদালতের রায়ের মাধ্যমে।
বিরোধ নিষ্পত্তি
বিরোধ সৃষ্টি হলে আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী প্রথমে আপোষ-মীমাংসার (Mediation) চেষ্টা করা বাধ্যতামূলক। সমঝোতা না হলেই কেবল আদালতের আশ্রয় নেওয়া যাবে। সুতরাং, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করার আগে আইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং দলিলটি সঠিকভাবে রেজিস্ট্রি করা অত্যন্ত জরুরি। এটি একদিকে যেমন আপনার কাজ সহজ করে, অন্যদিকে আপনার সম্পত্তির আইনি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে।